আইনি ঝামেলা এড়াতে বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্রে যে শর্তগুলো রাখা জরুরি
বাংলাদেশে বাড়ি বা ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার সময় কেবল মুখের কথায় ভরসা করা বড় ভুল। ভবিষ্যতে ভাড়াটিয়ার সাথে যেকোনো আইনি বা আর্থিক ঝামেলা এড়াতে একটি লিখিত ও রেজিস্টার্ড ভাড়াচুক্তি থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। কমপক্ষে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র তৈরি করে তা নোটারাইজড (Notary Public) করে নেওয়া উচিত। চুক্তিপত্রে যেসব আবশ্যকীয় শর্ত থাকা চাই:
জামানত বা অগ্রিম টাকা
ভাড়াটিয়া কত টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে দিয়েছেন তা লিখুন। বাসা ছাড়ার সময় বকেয়া বিল বা ফ্ল্যাটের ক্ষতিপূরণ এই জামানত থেকে কেটে নেওয়া হবে—এই শর্ত যুক্ত করুন।
সাব-লেট সম্পূর্ণ নিষেধ
বাড়িওয়ালার লিখিত অনুমতি ছাড়া ফ্ল্যাটের কোনো অংশ অন্য কারো কাছে সাব-লেট দেওয়া যাবে না।
নোটিশ পিরিয়ড
বাসা ছাড়তে বা খালি করাতে চাইলে উভয় পক্ষকে অন্তত ১ বা ২ মাস আগে লিখিত নোটিশ দিতে হবে।
ভাড়া পরিশোধের তারিখ
প্রতি মাসের ভাড়া কত তারিখের (যেমন: ১–৭ তারিখ) মধ্যে দিতে হবে তা নির্দিষ্ট করুন। ব্যাংকিং চ্যানেল বা বিকাশে ভাড়া নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
বিল ও সার্ভিস চার্জ
বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি এবং ভবনের কমন সার্ভিস চার্জ (লিফট, সিকিউরিটি) কে বহন করবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
ব্যবহারের উদ্দেশ্য
বাসাটি কেবল "আবাসিক কাজে" ব্যবহার হবে। কোনো বাণিজ্যিক বা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালানো যাবে না।
ক্ষতিপূরণ
ভাড়াটিয়ার অবহেলায় বাসার ফিটিংস বা প্রপার্টির ক্ষতি হলে ভাড়াটিয়াকে তা নিজ খরচে মেরামত করতে হবে।
প্রধান বিষয়সমূহ ও সতর্কতা
- কমপক্ষে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র তৈরি করে নোটারাইজড করুন।
- একটি সঠিক চুক্তিপত্র বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া উভয় পক্ষকেই সুরক্ষায় রাখে।
- চুক্তি শেষে স্থানীয় থানায় ভাড়াটিয়ার তথ্য ফরম জমা দিতে ভুলবেন না।